জিআই স্বীকৃতি পেল ‘জাপানি গ্রিন টি’

বিদেশে নকল পণ্যের বিস্তার ঠেকাতে ও নিজেদের কৃষি ও মৎস্য পণ্যের সুনাম সুরক্ষায় ‘জাপানি চা’সহ নতুন তিনটি পণ্যকে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃতি দিয়েছে জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়। গত শুক্রবার এক ঘোষণায় মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে।

জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর এখন থেকে এসব পণ্য একটি নির্দিষ্ট ‘জিআই মার্ক’ বা প্রতীক নিয়ে বাজারে বিক্রি হবে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান ভুয়া লেবেল ব্যবহার করলে বা নিয়ম লঙ্ঘন করলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা বা ক্র্যাকডাউন পরিচালনা করতে পারবে।

সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের নামকরা পণ্যকে সে অঞ্চলের নামানুসারে জিআই স্বীকৃতি দেয়া হয়। তবে এবারের জাপানি চা পণ্যটির ক্ষেত্রে পুরো দেশে উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত সব সবুজ চা (গ্রিন টি) এ সুরক্ষার আওতায় থাকবে। কোনো সুনির্দিষ্ট অঞ্চলের নাম উল্লেখ না করে এভাবে পুরো দেশের পণ্যকে জিআই দেয়া বেশ বিরল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে জাপানি গ্রিন টির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এ সুযোগে বিদেশে জাপানি চায়ের নামে প্রচুর নকল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। প্রকৃত জাপানি চায়ের গুণগত মান ও স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরে এর বাজারমূল্য বজায় রাখাই এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

বিদেশে ব্র্যান্ডটির অননুমোদিত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় গত বছরের অক্টোবরে টোকিওভিত্তিক ‘জাপান টি সেন্ট্রাল পাবলিক ইন্টারেস্ট ইনকরপোরেটেড অ্যাসোসিয়েশন’ এ স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে।

জাপানের কৃষিমন্ত্রী নোরিকাজু সুজুকি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নিবন্ধনের ফলে সামগ্রিকভাবে জাপানি চায়ের ব্র্যান্ডের মান ও শক্তি বাড়বে। এটি নকল পণ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে ও আমাদের শক্তিশালী রফতানি বাণিজ্যকে আরো গতিশীল করবে।’

জাপানি চা ছাড়াও নতুন করে জিআই সুরক্ষার তালিকায় যুক্ত হয়েছে জাপানের মধ্যাঞ্চলীয় শিজুওকা প্রিফেকচারের ‘লেক হামানাকো জাপানি ইল’ (এক ধরনের মাছ) ও ইশিকাওয়া প্রিফেকচারের ‘কাগা লোটাস রুট’ (পদ্মের মূল)।

জাপানে ২০১৫ সালে কৃষি ও মৎস্য পণ্যের সুরক্ষায় জিআই ব্যবস্থা চালু হয়। নতুন তিনটি পণ্যসহ দেশটিতে মোট নিবন্ধিত জিআই পণ্যের সংখ্যা এখন ১৭০টি। এর আগে শিজুওকা প্রিফেকচারের ‘কিকুগাওয়া ডিপ-স্টিমড গ্রিন টি’ ও ফুকুওকা প্রিফেকচারের ‘ঐতিহ্যবাহী ইয়ামে গিওকুরো’ চা সুনির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক জিআই স্বীকৃতি পায়। —খবর জাপান টাইমস

আরও